Advertisement
বাঘা(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর বাঘায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংর্ঘষে আহত বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল মারা গেছেন।
বুধবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে মারা যান। আশরাফুল ইসলাম বাবুল উপজেলার গাঁওপাড়া গ্রামের আমির হোসেন আমুর ছেলে।
এর আগে গত শনিবার (২২ জুন) বাঘা পৌর সভার মেয়র আক্কাস আলীর অনিয়ম ও দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বাঘা উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগ।
অপরদিকে ঠিক একই সময়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের আধিপত্য বিস্তার,অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দলিল প্রতি অতিরিক্ত ফ্রি আদায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা করেন আক্কাস আলী ও তার সমার্থকরা। উপজেলা চত্বরের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ানোর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মাথায় বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাস আলী,তার ভাগনা পাকুড়িয়া (ইউপি চেয়ারম্যান) মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মোকাদ্দেস ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাইনুল ইসলাম মুক্তার নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত ক্যাডার বাহিনী দেশীয় ধারালো অস্ত্র,লোহার পাইপ,ইট এবং পাথরের টুকরা নিয়ে ঐ মানববন্ধনে হামলা চালায়।
দু’পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে আহত হন আশরাফুল ইসলাম বাবুল,আড়ানি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ তাদের পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। অপর পক্ষের পৌর মেয়র আক্কাছ আলী,সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ ইনু) কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান শফি,পথচারী, পুলিশ -সংবাদকর্মীসহ তাদের পক্ষের লোকজন আহত হন। গুরুতর আহত আশরাফুল ইসলাম বাবুল ও রফিকুল ইসলামকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে আশরাফুল ইসলামকে (বাবুল) আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
পরে রোববার (২৩ জুন) পৌর মেয়র আক্কাস আলীসহ ৪৬ জনের নামে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছে। তবে প্রধান আসামি আলোচিত মেয়র আক্কাস আলীকে এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ মামলার বাদী হয়েছেন পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও যুবলীগ নেতা শাহিনুর রহমান পিন্টু। এ ছাড়া এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি ২০০ জন। আটকৃতরা হলেন লিটন আলী, তরঙ্গ, মারুফ হোসেন, গোলাম মোস্তফা, মতিউর রহমান ও নাসির উদ্দিন।