বৃহস্পতিবার 27 মার্চ 2025

lisensi

Advertisement

Picsart-23-09-20-19-46-51-668
বাংলাদেশ প্রকাশ
সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫
Last Updated 2025-03-24T05:09:10Z
জাতীয়

"লাল বেনারশির আড়ালে ঢাকা পড়ছে শহীদের রক্ত "



নাজমুল ইসলাম:

ছাত্র জনতার ২৪ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে সমন্বয়ক হওয়া নেতারা বিয়ের উৎসবে মেতে উঠেছে। তাদের নতুন নতুন বাড়ি, নতুন নতুন গাড়ি, নতুন নতুন বউ দেখে মনে হচ্ছে, লাল রংয়ের বেনারসি শাড়ির আড়ালে শহীদদের রক্ত ঢেকে যাচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে ছাত্র জনতার চাওয়া ছিল, শহীদদের রক্তের দাগ শোকানোর আগেই খুনিদের বিচার করতে হবে। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোন বিচার কাজ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে শুধু মোটা তাজা হওয়ার প্রতিযোগিতা। 

তারা দল গঠন করেই নিজেদের স্বার্থে বলতে শুরু করেছিলেন, আগে সংস্কার তারপরে নির্বাচন। এখন তাদের দেখে মনে হচ্ছে, আগে বিয়ে, তারপর সংস্কার, তারপর নির্বাচন। অনেক হয়েছে। গরিমসি করে নির্বাচন এবং সংস্কার ও বিচারকার্য আর দেরি করবেন না প্লিজ। ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের ছাত্র জনতা এবং আহত যোদ্ধাদের বুকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। বিপ্লবের পালস বোঝার চেষ্টা করুন।  


বিয়ে-শাদী, চাকরি-বাকরি করে উৎসব মুখর জীবন আমরা ও পালন করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি।  গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য, একটি ফ্যাসিস্ট  স্বৈরাচার সরকার পতন করতে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালিখা শেষ করা আমার মতো হাজার হাজার ছেলে মেয়েকে দেখেছি তারা একটি চাকরির জন্য এপ্লাই করেনি অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছে। পরিবার থেকে বিয়ের চাপ থাকলেও তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেনি। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে তারা বেছে নিয়েছে একটি বিপ্লবী জীবন। সে দীর্ঘ পথ এতটা সহজ ছিল না, যতটা ভাবছেন। 


আপনারা ভেবেছেন এক মাসের আন্দোলনে বিপ্লব সফল হয়েছে, তা কখনোই হয়না। ১৭-১৮ বছরে হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে। হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ হামলা মামলার শিকার হয়েছে। শত শত মানুষকে গুম করে রাখা হয়েছে। কখনো আর তারা ফিরে আসেনি মায়ের বুকে। বছরের পর বছর বিপ্লবীদের আয়না ঘরে বন্দী রেখে অসহনীয় অত্যাচার করা হয়েছে। প্রতিটি শহরে, প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে আওয়ামী দোসরদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল সবার। তারপরই ছাত্র জনতার ডাকে বিপ্লব শুরু। বিপ্লবের মাধ্যমে, হাজার হাজার শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বৈরাচার মুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ। 

Advertisement

স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু তাদের দোসোরেরা সারাদেশে, অফিস আদালতে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে, সচিবালয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্রতিনিয়ত তারা দেশকে একটি  অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে  উপস্থাপন করার জন্য নানা রকম অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। সেদিকে নজর দিন। বিগত ১৭-১৮ বছর তারা যে অন্যায় অপরাধ করেছে তাদের বিচারে মনোযোগী হন। আওয়ামী স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ গরার দিকে মন দিন। 


আওয়ামী ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকারের অনিয়মের যাতা কলে পিষ্ঠ  নড়বড়ে বাংলাদেশের সংস্কার কাজ সবার আগে জরুরী। ২৪ শে জুলাই আন্দোলনের প্রতিটি দলকে নিয়ে একটি সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করুন। নির্বাচনের আগে যতটুকু সম্ভব সংস্কার করুন এবং বাংলাদেশের মানুষকে  একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিন। নির্বাচিত সরকারকে বাধ্য করুন সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য। 


আপনাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য সামনে অনেক সময় পাবেন। ছাত্র জনতা জীবন দিয়ে যে পথ দেখিয়ে গিয়েছে সেই পথে হাঁটুন। শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে উৎসবে মেতে উঠবেন না। যাদের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়েছে, সবার আগে তাদের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করুন। 


বাংলাদেশের আপামর ছাত্র জনতা যে স্বপ্ন নিয়ে আমাদের ডাকে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারীর রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। না হলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। ইতিহাস বড়ই নিষ্ঠুর। natural punishment বলে একটা কথা আছে।    কাজের ফল পেতেই হয়। তার জ্বলন্ত প্রমাণ রেখে গেছেন স্বৈরাচার হাসিনা। 


তাই আসুন, সকল ভেদাভেদ ভুলে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে আমরা সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ রেখে যেভাবে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছিলাম, ঠিক তেমনি ভাবে সকল মোহ, সকল লোভ ত্যাগ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের দিকে সবাই মিলে এগিয়ে যাই। সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।