Advertisement
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু,ডোমার নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার পৌরসভার ০১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক রাজাকে সালিশ বৈঠকের নামে ডেকে নিয়ে বেধরক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে দূর্বত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করায়। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার মামলায় অভিযুক্ত তরিকুলকে গ্রেফতার করেছে ডোমার থানা পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকার মডেল স্কুল পাড়া এলাকায়।
বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক রাজা। তিনি কাউন্সিলরের পাশাপাশি দৈনিক জনতা পত্রিকার ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানান।
ঘটনার বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, হাত, মুখ, পা বেধে দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সংবদ্ধভাবে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় সাবেক ওই কাউন্সিলর রাজার ওপর। এসময় এলাকার লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করায়।
এবিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক রাজা জানান, মডেল স্কুল পাড়ায় পরকিয়ার একটি ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মাঝে অশান্তি বিরাজ করছিল। বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা করে দেওয়ার জন্য বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় আমাকে যেতে বলেন। প্রথমে তিনি যেতে রাজি না হলে ওই এলাকার মশিয়ার রহমান তাঁকে অনুরোধ করে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যান। এরপর আলোচনার এক পর্যায়ে ওই এলাকার তরিকুল ইসলাম ও তার লোকজন আমার হাত, মুখ, পা বেধে একটি খুঁটিতে রশি দিয়ে পেচিয়ে রেখে বেধরক মারপিট শুরু করে। তাদের মারপিটে আমি গুরুত্বর আহত হই। উক্ত ঘটনার সময় মশিয়ার অনেক চেষ্টা করেও আমাকে উদ্ধার করতে না পেরে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।
তিনি আরও জানান ঘটনার সময় আমাকে রক্ষা করতে স্বাধীন নামের এক যুবকও এগিয়ে এলে সেও হামলার শিকার হয়ে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। স্বাধীনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এবিষয়ে তরিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,‘রাজা কাউন্সিলরের লোকজন আমার বাড়িতে রাত একটার দিকে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমার পরিবারে আমি ও আমার পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হয়েছে। তারা আমাকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি প্রদান করেছে’।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সুলতানা রাজিয়া জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে স্বাধীন নামের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এবিষয়ে ডোমার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে এবং তরিকুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।