Advertisement
বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনার তালতলী উপজেরার চাউলাপাড়া গ্রামের রহিম ডাক্তার বাড়ীর আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত প্রেমিক যুগলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ মরদেহ উদ্ধার করো হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার পুর্ব রানীপাড়া গ্রামের শুক্তর হাওলাদারের ছেলে ইকবাল হাওলাদার গত ছয় মাস আগে বিয়ে করেন। নব বধুকে বাড়ীতে রেখে ঢাকায় যান ইকবাল। ওইখানে একটি গার্মেন্সে চাকুরী নেন তিনি। ওই গার্মেন্সে পরিচয় হয় পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের লামিয়ার সঙ্গে। পরিচয় থেকে প্রেম। তাদের এ প্রেমের বিষয়টি পরিবার জেনে যায়। দুই দিন আগে ইকবাল ওই প্রেমিকাকে নিয়ে কুয়াকাটা বেড়াতে যায়। কুয়াকাটা থেকে গত বুধবার বিকেলে লামিয়াকে নিয়ে ইকবাল তালতলী উপজেলার চাউলাপাড়া গ্রামের ভগ্নিপতি রিপন ডাক্তারের বাড়ীতে বেড়াতে আসেন। ভগ্নিপতি ও বোন ঢাকায় বসবাস করেন। ওই বাড়ীতে থাকে ভগ্নিপতির বাবা রহিম ডাক্তার ও তার মা। এদিকে ছেলেকে না পেয়ে পরিবার বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে। পরে জানতে পায় ছেলে তার প্রেমিকাকে নিয়ে জামাই বাড়ীতে এসেছে। বৃহস্পতিবার মা হাজেরা বেগম জামাই বাড়ীতে আসেন এবং ছেলেকে গালমন্দ করেন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে ছেলে ইকবাল ও তার প্রেমিকা লামিয়া ভগ্নিপতির ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না ও রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই বাড়ী থেকে তাদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয়রা জানায় প্রেমিক ইকবাল ওড়না এবং প্রেমিকা রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, ইকবাল একটি ডিভোর্সি মেয়ের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পরেছে তা মানতে পারেনি পরিবার। তাই তারা ভগ্নিপতির বাড়ীতে এসে আত্মগোপন করে। ছেলের মা হাজেরা বেগম বৃহস্পতিবার জামাই বাড়ী এসে ছেলেকে গালমন্দ করে। এতে ক্ষুব্দ হয়ে প্রেমিক যুগল আত্মহত্যা করেছে।
মা হাজেরা বেগম কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, ছেলে এমন কান্ড করায় আমি গালমন্দ করেছি। এতে আমার ছেলে তার প্রেমিকা আত্মহত্যা করেছে।
তালতলী থানার ওসি মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, প্রেমিক যুগলের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আগামীকাল ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।