lisensi

Advertisement

Picsart-23-09-20-19-46-51-668
বাংলাদেশ প্রকাশ
বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫
Last Updated 2025-04-03T14:40:05Z
আইন ও অপরাধ

তরমুজ পরিবহনে যুবদল নেতার ডিন্ডিকেট: প্রতিবাদ করায় মারধর,সংঘর্ষে আহত ১২

Advertisement


বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনার আমতলীতে ডিন্ডিকেট গড়ে তরমুজ খেত থেকে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া আদায় করছেন সবুজ খাঁন  ও তোফা মৃধা নামের দুই যুবদল নেতা। আরেক যুবদল সমর্থক ইসরাফিল মোল্লা এর প্রতিবাদ করায় তাকে যুবদল নেতা সবুজ খাঁনের লোকজন মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার জের ধরে বুধবার রাত ১১ টার দিকে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত পাঁচ জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার পুর্ব সোনাখালী গ্রামে। 


জানাগেছে, উপজেলার পুর্ব সোনাখালী গ্রামে এক’শ ২৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ওই জমিতে ৫ হাজার মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হবে বলে দাবী করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মোঃ রাসেল। গত ২৮ মার্চ খেত থেকে ওই তরমুজ কাটা শুরু হয়। ওই তরমুজ খেত থেকে পরিবহনে মুল সড়কে আনতে ইব্রাহিম বাদশা দুইটি মাহেন্দ্র গাড়ী ভাড়া আনেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার খেত থেকে তরমুজ প্রতি ৫ টাকা পরিবহন ভাড়ার চুক্তি হয়। কিন্তু আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সবুজ খাঁন ও তার সহযোগী তোফা মৃধা ডিন্ডিকেট গড়ে ওই তরমুজের পরিবহন ভাড়া তিন টাকা বাড়িয়ে ৮ টাকা আদায় করেছেন। তাদের চাহিত তরমুজ প্রতি তিন টাকা বাড়তি না দিলে খেত থেকে ব্যবসায়ীদের তরমুজ নিতে দেন না তারা এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সবুজ খাঁন ও তোফা মৃধার এমন ডিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন আরেক যুবদল সমর্থক ইসরাফিল মোল্লা। এ নিয়ে সবুজ খাঁনের সহযোগী সিদ্দিকুর রহমান খাঁনের সঙ্গে গত ২৯ মার্চ যুবদল নেতা ইসরাফিল মোল্লার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় সবুজ খাঁনের সহযোগী সিদ্দিকুর রহমান খাঁন, মিরাজ খাঁন ও নিজাম খাঁন তাকে মারধর করে। এ ঘটনার জের ধরে বুধবার রাতে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়। গুরুতর আহত কাইয়ুম মোল্লা, সোহাগ মোল্লা, নিজাম খাঁন, রাকিব খাঁন ও খোরশেদ খাঁনকে স্বজনরা উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেছে। অপর আহত হাসেম মোল্লা, বশির মোল্লা, ইসরাফিল মোল্লা, আলামিন মোল্লা, কবির মোল্লা ও সিদ্দিকুর রহমান খাঁনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।  


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন,  খেত থেকে পরিবহনে তরমুজ প্রতি পাঁচ টাকা ভাড়া চুক্তি হলেও দিতে হচ্ছে আট টাকা। তরমুজ প্রতি ৩ টাকা বাড়তি আদায় করছেন যুবদল কয়েকজন নেতা। তবে তারা যুবদল নেতার নাম প্রকাশে অপরগতা প্রকাশ করেছেন। তারা আরো বলেন, বাড়তি টাকা না দিলে খেত থেকে তরমুজ পরিবহন গাড়ীতে তোলা যায় না।  


যুবদল নেতা ইসরাফিল মোল্লা বলেন, গত ২৮ মার্চ থেকে পুর্ব সোনাখালী গ্রামে তরমুজ কাটা শুরু হয়।  ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খেত থেকে পরিবহন ভাড়া তরমুজ প্রতি ৫ টাকা করে চুক্তি হয়। কিন্তু স্থানীয় কথিত যুবদল নেতা সবুজ খাঁন ও তোফা মৃধা তিন টাকা বাড়িয়ে আট টাকা নির্ধারণ করেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে সবুজ খাঁনের সহযোগীরা মারধর করেছে। এ ঘটনার জের ধরে বুধবার রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সবুজ খাঁনের লোকজন পুনরায় আমার ও আমার লোকজনের ওপর হামলা করেছে। এতে আমার পক্ষের সাতজন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত কাইয়ুম মোল্লা ও সোহাগ মোল্লাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিএনপির সমর্থণ করায় ২০১৮ সালে ২৮ দিন জেল খেটেছি আর সবুজ খাঁন আওয়ামীলীগ করে এখন তিনি যুবদল নেতা হয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। আমি এ ঘটনায় তার শাস্তি দাবী করছি। 


আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সবুজ খাঁন বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা ইসরাফিল মোল্লা গাড়ী আটকে চাঁদা দাবী করেন। ওই ঘটনায় গত ২৯ মার্চ সিদ্দিকুর রহমান খাঁনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল রাতে ইসরাফিল মোল্লা ও তার লোকজন সিদ্দিকুর রহমান খাঁনসহ আমার লোকজনের ওপর হামলা করেছে। এতে আমার পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৩ জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি দুরত্ব ভেদে পরিবহন খরচ তিন টাকা বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন। 


গাজীপুর পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ রনজিত কুমার সরকার বলেন, গত ২৯ মার্চ মাহেন্দ্র থেকে চাঁদা দাবীর অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছি। তাতে চাঁদা আদায়ের কোন সত্যতা পায়নি। ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।  


আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, খবর পেয়ে গাজীপুর ফাড়ির পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।