lisensi

Advertisement

Picsart-23-09-20-19-46-51-668
বাংলাদেশ প্রকাশ
শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫
Last Updated 2025-04-04T07:11:23Z
আইন ও অপরাধ

সালথায় আ.লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে আহত- ১২, বাড়ি-ঘর ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ

Advertisement


 

বিধান মন্ডল (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথায় এক বিএনপি নেতাকে চাঁদা না দেয়ার জের ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর সহ এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের বসত ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্ততপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে।



বৃহস্পতিবার(৩ এপ্রিল) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। 



এ ঘটনায় এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হারুন মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া এবং অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আফছার মাতুব্বরের সমর্থক বেলায়েত মোল্যা।



এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, দলীয় কোন্দল নিয়ে দুপুরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় বেলায়েত মোল্যার সমর্থক আজিজুল শেখকে (৪১) কুপিয়ে জখম করা হয়। তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এর পরে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ সমর্থক কৃষক কবির শেখের বসতঘরে আগুন দেয়াসহ ১০ থেকে ১২ টি খড় ও পাটখড়ির গাদায় আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।



বেলায়েত মোল্যা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে গ্রামের বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়া ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য টিটুল মিয়া আমার কাছে সহ আমাদের অনেকের কাছে টাকা চায়। আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে বলে আসছে, এলাকায় থাকতে হলে টাকা দিয়ে থাকতে হবে। টাকা না দেয়ায় কয়েকদিন আগে আমাকে মারধর করা হয়। এরপরও আমি চুপচাপ ছিলাম। কিন্তু ওরা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝামেলা করতে আসে। কতক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকা যায়।



তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া থেকে অসুস্থ হয়ে আসা আজিজুলের কাছেও টাকা চায়। ও যোগার করে পঞ্চাশ হাজার দিতে যায় কিন্তু টাকা কম হওয়ায় ওরে কুপানো হয়। ঘটনা শোনার পরে আমরা জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাই। পরে ওরা ঢাল-সড়কি নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে, তখন আমরাও ধাওয়া দিই। পরে ওরা আমাদের দলের ৪ থেকে ৫টি বাড়ি ভাংচুর করেছে, একজনের বাড়ি আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।



এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, রমজানের মধ্যে পাশ্ববর্তী খলিশপুট্টি মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে গ্রাম থেকে লোকজন নিয়ে আমি যাওয়ায় আমার ওপর আফছার চেয়ারম্যানের দুই ছেলে নাজমুল ও স্বপন মাতুব্বর ক্ষিপ্ত হয়। এর জের ধরে আজকের ঘটনার ওরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। তবে কোনো চাঁদা চাওয়া নিয়ে মারামারি হয়নি। এখন ওরা মিথ্যাচার করছে। আমার দলের অনেককে আহত করা হয়েছে। আমার বাড়িঘরে ভাংচুর ও আগুন দিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন। 



এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান জানান, পূর্ব বিরোধের জেরধরে গ্রামের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি'র দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় একটি বাড়ি ভাঙচুর সহ কয়েকটি খড়ের গাদায় আগুন দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধিন।